ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুলাউড়া থানা পুলিশের অভিযানে ১৪ হাজার শলাকা ভারতীয় নাসিরুদ্দিন বিড়ি উদ্ধার কুলাউড়ায় বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ৬–৭ মাস পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাঠের ভোটযুদ্ধ শুরু কোন কোন আসনে লড়বে জাতীয় পার্টি, তালিকা প্রকাশ জামায়াতে ইসলামীর জনসমাবেশ ও নির্বাচনি প্রচারণা শুরু সরকারে গেলে নবীর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করব: তারেক রহমান নির্বাচনে ‘সহজ আসন’ কম, সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বী ৩১ কেন্দ্রে হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির নির্বাচনি প্রচার শুরু পছন্দের প্রতীক পেয়ে যা বললেন তাসনিম জারা জোটের ভোটের রাজনীতির হিসাব পাল্টে গেল!
সংবাদ শিরোনাম ::
কুলাউড়া থানা পুলিশের অভিযানে ১৪ হাজার শলাকা ভারতীয় নাসিরুদ্দিন বিড়ি উদ্ধার কুলাউড়ায় বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ৬–৭ মাস পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাঠের ভোটযুদ্ধ শুরু কোন কোন আসনে লড়বে জাতীয় পার্টি, তালিকা প্রকাশ জামায়াতে ইসলামীর জনসমাবেশ ও নির্বাচনি প্রচারণা শুরু সরকারে গেলে নবীর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করব: তারেক রহমান নির্বাচনে ‘সহজ আসন’ কম, সর্বোচ্চ প্রতিদ্বন্দ্বী ৩১ কেন্দ্রে হাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এনসিপির নির্বাচনি প্রচার শুরু পছন্দের প্রতীক পেয়ে যা বললেন তাসনিম জারা জোটের ভোটের রাজনীতির হিসাব পাল্টে গেল!

কুলাউড়ায় বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ৬–৭ মাস পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

কুলাউড়ায় বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ৬–৭ মাস পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেকুলাউড়ায় বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ৬–৭ মাস পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে



কুলাউড়া প্রতিনিধি: আব্দুল ওয়াদুদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের রনচাপ এলাকার বাসিন্দা বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস পার হলেও এখনো বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দাবি, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ২টার দিকে এলাকার কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তি বিজয় মালাকারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। বিজয় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে তাকে মনু নদীর বেড়িবাঁধ কাটার কাজে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতেই অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ কাটার সময় মাটি ধসে বিজয় মালাকার চাপা পড়েন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কুরপান আলী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার না করে সেখান থেকে চলে যান।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে নিহতের ভাই বিশু মালাকার ঘটনাস্থলে এসে বিজয় মালাকারকে খুঁজতে গিয়ে তাকে মাটিচাপা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভেকুর সাহায্যে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার করা হলে হয়তো বিজয় মালাকারের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর কুরপান আলী বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জমি ও নগদ অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেননি।

 

 

নিহতের স্ত্রী বলেন,
“আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আমার স্বামী। এখন ঘরে খাবার পর্যন্ত নেই। আমি আমার স্বামীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
বিজয় মালাকারের দুই মেয়েও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবার মৃত্যুর বিচার দাবি করে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এ ঘটনায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কুরপান আলী বলেন,
“তারা যেহেতু মামলা করেছে, তাহলে দেখি মামলায় কি করতে পারে এবং কি করে আছে। এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।”

এ বিষয়ে হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর আহমদ চৌধুরী বলেন,
“আমি একবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কুরপান আলী এতে রাজি হননি। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছেন। কুরপান আলী নিহতের পরিবারকে কিছু জমি ও নগদ অর্থ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ছয় থেকে সাত মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি—এটি সত্য।”

একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিধান দত্ত বলেন,“বিজয় মালাকার মাটিচাপায় মারা গেছেন—এটি সত্য। তিনি কুরপান আলীর নির্দেশে মনু নদীর বাঁধ কেটে পাইপ বসানোর কাজে গিয়েছিলেন। সেখানে মাটিচাপায় তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় মুরব্বি ও প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও উভয় পক্ষ একমত না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।”

এদিকে, বিজয় মালাকারের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুলাউড়ায় বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ৬–৭ মাস পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৩:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

কুলাউড়ায় বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ৬–৭ মাস পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেকুলাউড়ায় বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ৬–৭ মাস পরও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ পরিবারের কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে



কুলাউড়া প্রতিনিধি: আব্দুল ওয়াদুদ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের রনচাপ এলাকার বাসিন্দা বিজয় মালাকারের মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস পার হলেও এখনো বিচার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দাবি, গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ২টার দিকে এলাকার কুরপান আলী নামে এক ব্যক্তি বিজয় মালাকারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। বিজয় যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে তাকে মনু নদীর বেড়িবাঁধ কাটার কাজে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতেই অবৈধভাবে বেড়িবাঁধ কাটার সময় মাটি ধসে বিজয় মালাকার চাপা পড়েন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কুরপান আলী তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার না করে সেখান থেকে চলে যান।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, পরে নিহতের ভাই বিশু মালাকার ঘটনাস্থলে এসে বিজয় মালাকারকে খুঁজতে গিয়ে তাকে মাটিচাপা অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভেকুর সাহায্যে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার করা হলে হয়তো বিজয় মালাকারের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হতো। তারা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর কুরপান আলী বিভিন্ন সময়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জমি ও নগদ অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেননি।

 

 

নিহতের স্ত্রী বলেন,
“আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আমার স্বামী। এখন ঘরে খাবার পর্যন্ত নেই। আমি আমার স্বামীর মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
বিজয় মালাকারের দুই মেয়েও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবার মৃত্যুর বিচার দাবি করে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এ ঘটনায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উদ্যোগে একাধিকবার সালিশের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কুরপান আলী বলেন,
“তারা যেহেতু মামলা করেছে, তাহলে দেখি মামলায় কি করতে পারে এবং কি করে আছে। এ বিষয়ে আমার আর কিছু বলার নেই।”

এ বিষয়ে হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর আহমদ চৌধুরী বলেন,
“আমি একবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কুরপান আলী এতে রাজি হননি। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়েছেন। কুরপান আলী নিহতের পরিবারকে কিছু জমি ও নগদ অর্থ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ছয় থেকে সাত মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি—এটি সত্য।”

একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিধান দত্ত বলেন,“বিজয় মালাকার মাটিচাপায় মারা গেছেন—এটি সত্য। তিনি কুরপান আলীর নির্দেশে মনু নদীর বাঁধ কেটে পাইপ বসানোর কাজে গিয়েছিলেন। সেখানে মাটিচাপায় তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় মুরব্বি ও প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও উভয় পক্ষ একমত না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।”

এদিকে, বিজয় মালাকারের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।